ফিঙ্গারস্টাইল গিটারের ৭টি জাদুকরী কৌশল যা আপনার বাজানোকে নতুন মাত্রা দেবে

webmaster

기타 핑거스타일 기법 - **Prompt:** A young adult, dressed in casual yet stylish clothing (like a sweater and jeans), standi...

আরে বন্ধুগন! কেমন আছেন সবাই? আপনাদের প্রিয় বন্ধু আবারও হাজির হয়েছে গিটারের সুর আর নতুন নতুন কৌশল নিয়ে কথা বলতে। আপনারা অনেকেই আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কিভাবে ফিঙ্গারস্টাইল গিটার বাজানো যায়, বা কোথায় শুরু করা যায়। সত্যি বলতে, যখন আমি প্রথম এই জগতে পা রেখেছিলাম, তখন মনে হয়েছিল যেন এক অচেনা সাগরে ডুব দিচ্ছি!

기타 핑거스타일 기법 관련 이미지 1

কিন্তু একটু ধৈর্য আর সঠিক কৌশল জানা থাকলে, এই ফিঙ্গারস্টাইল গিটার আপনাকে এক অন্য জগতে নিয়ে যেতে পারে। আজকাল তো দেখি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ইউটিউবে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই নতুন নতুন ফিউশন বা এক্সপেরিমেন্টাল ফিঙ্গারস্টাইল পারফরম্যান্স চোখে পড়ছে। শুধু তাই নয়, আধুনিক প্রযুক্তি আর অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বদৌলতে এখন ঘরে বসেই বিশ্বের সেরা গিটারিস্টদের কাছ থেকে শেখা আরও সহজ হয়ে গেছে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, এটা শুধু গিটার বাজানো নয়, এটা যেন নিজের ভেতরের সুরকে হাতের ডগায় ফুটিয়ে তোলার এক শিল্প। এতে আপনার মন যেমন শান্ত হয়, তেমনই আপনার সৃজনশীলতাও বাড়ে বহুগুণ। চলুন তাহলে, ফিঙ্গারস্টাইল গিটারের এই অসাধারণ দুনিয়াটা আমরা আরও গভীরভাবে খুঁজে দেখি।আপনারা যারা গিটার নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন, বা যারা ইতিমধ্যেই সুরের জগতে আছেন, তাদের জন্য ফিঙ্গারস্টাইল শেখাটা একটা দারুণ অভিজ্ঞতা হতে পারে। অনেকেই মনে করেন এটা খুব কঠিন, কিন্তু আমার বিশ্বাস, সঠিক গাইডলাইন আর একটু অনুশীলনে আপনিও বাজাতে পারবেন দারুণ দারুণ সুর। সম্প্রতি দেখছি, গিটার ব্র্যান্ডগুলোও ফিঙ্গারস্টাইলের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা অ্যাকোস্টিক গিটার নিয়ে আসছে, যা সুরকে আরও মিষ্টি আর স্পষ্ট করে তোলে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হয়তো সঙ্গীত জগতে অনেক কিছু পরিবর্তন আনছে, কিন্তু মানুষের হাতের ছোঁয়ায় যে জাদু তৈরি হয়, তার তুলনা হয় না। এই ফিঙ্গারস্টাইলের মধ্য দিয়ে আপনি আপনার নিজস্ব অনুভূতি, আপনার গল্পগুলো তুলে ধরতে পারবেন সুরের মাধ্যমে। আমি নিজেও যখন কোনো কঠিন সুর বাজানোর পর সফল হই, তখন যে আনন্দ পাই, তা সত্যিই বর্ণনার অতীত। অনেক সময় এমন হয় যে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা গিটার নিয়ে বসে আছি, আর নিজের অজান্তেই নতুন কোনো সুর তৈরি হয়ে যাচ্ছে। এতে আপনার মনোযোগ বাড়ে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও উন্নত হয়। তাই আর দেরি না করে, এই সুরের খেলা শুরু করার জন্য প্রস্তুত হন। নিচে আমরা ফিঙ্গারস্টাইল গিটারের বিভিন্ন কৌশল এবং কিছু দারুণ টিপস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।তাহলে আর দেরি কেন, চলুন এই মুগ্ধকর ফিঙ্গারস্টাইল দুনিয়ায় প্রবেশ করি এবং এর প্রতিটি খুঁটিনাটি সঠিকভাবে জেনে নিই!

শুরুটা হোক মজাদার: আপনার স্বপ্নের গিটারকে সঙ্গী করুন

প্রথম পদক্ষেপ: সঠিক গিটার নির্বাচন

সত্যি বলতে, ফিঙ্গারস্টাইল গিটার শেখার প্রথম ধাপটাই হলো একটা সঠিক গিটার বেছে নেওয়া। আমার নিজের মনে আছে, যখন প্রথম গিটার কিনতে গিয়েছিলাম, তখন দোকানে কত শত গিটার দেখে মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল!

কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ, কিছুই বুঝতাম না। কিন্তু বন্ধুরা, ফিঙ্গারস্টাইলের জন্য সাধারণত অ্যাকোস্টিক গিটারই বেশি উপযোগী। তবে, সব অ্যাকোস্টিক গিটারই ফিঙ্গারস্টাইলের জন্য সেরা নয়। কিছু গিটার আছে যেগুলোর অ্যাকশন (ফ্রেটবোর্ড থেকে তারের দূরত্ব) একটু কম হয়, সেগুলো বাজাতে অনেক আরামদায়ক। বিশেষ করে কনসার্ট সাইজের বা গ্র্যান্ড অডিটোরিয়াম সাইজের গিটারগুলো ফিঙ্গারস্টাইলের জন্য বেশ ভালো হয়, কারণ এদের সাউন্ড প্রজেকশন খুব সুন্দর হয় আর ফিঙ্গারপিকিংয়ের জন্য যথেষ্ট স্পেস পাওয়া যায়। আমি বলবো, কেনার আগে দোকানে গিয়ে অন্তত একবার নিজে বাজিয়ে দেখুন, হাতে নিয়ে দেখুন কেমন লাগছে। যে গিটারটা আপনার হাতে আরামদায়ক মনে হবে এবং যার সুর আপনার মন ছুঁয়ে যাবে, সেটাই আপনার জন্য সেরা। আজকাল বাজারে Yamaha, Taylor, Martin, Ibanez-এর মতো অনেক ভালো ব্র্যান্ডের ফিঙ্গারস্টাইল-উপযোগী গিটার পাওয়া যায়। একটু খোঁজ নিলে আপনার বাজেটের মধ্যেই ভালো কিছু পেয়ে যাবেন। আর একটা জিনিস মনে রাখবেন, ভালো গিটার শুধু সুরই দেয় না, আপনার অনুশীলনেও অনেক উৎসাহ যোগায়।

হাতের পজিশন: সুরের প্রথম সিঁড়ি

গিটার হাতে নেওয়ার পর সবচেয়ে জরুরি যে বিষয়টি, তা হলো হাতের সঠিক পজিশন। এটা এমন একটা ভিত্তি, যার উপর আপনার পুরো ফিঙ্গারস্টাইল শেখার যাত্রাটা নির্ভর করবে। আমি নিজে প্রথমদিকে অনেক ভুলভাল পজিশনে বাজিয়েছি, যার ফলে আঙুলে ব্যথা হতো আর সুরও ঠিকভাবে বের হতো না। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, আপনার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ (thumb) গিটারের নেকের পেছনে এমনভাবে রাখুন যাতে বাকি আঙুলগুলো ফ্রেটের উপর সহজেই পৌঁছাতে পারে। কনুইটা শরীরের সাথে লাগিয়ে রাখবেন না, বরং একটু আলগাভাবে ধরে রাখুন। ডান হাতের ক্ষেত্রে, ফিঙ্গারস্টাইল বাজানোর সময় পিক ব্যবহার না করে আঙুল ব্যবহার করা হয়। এখানে আপনার হাতের কব্জিটা একটু রিল্যাক্সড থাকা চাই। আঙুলগুলো তারের উপর এমনভাবে রাখুন যেন আপনি তাদের আলতো করে স্পর্শ করছেন, খুব বেশি চাপ দেবেন না। অনেকেই প্রথমদিকে আঙুলের নখ ব্যবহার করেন, অনেকে আবার শুধু আঙুলের ডুব বা মাংসল অংশ ব্যবহার করেন। দুটোই ঠিক, তবে আমার মনে হয়, নখ কিছুটা লম্বা থাকলে সুর আরও স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল হয়। তবে অতিরিক্ত লম্বা নখ সুরকে নষ্টও করতে পারে, তাই একটা ভারসাম্য রাখা জরুরি। এটা অনেকটাই অভ্যাসের ব্যাপার। প্রথমদিকে একটু অস্বস্তি লাগতে পারে, কিন্তু নিয়মিত অনুশীলনে দেখবেন, আপনার হাত নিজেই সঠিক পজিশন খুঁজে নিচ্ছে।

আঙুলের যাদুতে সুরের ফোয়ারা: বেসিক কৌশল আয়ত্ত করা

বেসিক প্যাটার্ন রপ্ত করা

বন্ধুরা, ফিঙ্গারস্টাইলের মূল মন্ত্রই হলো বেসিক প্যাটার্নগুলো আয়ত্ত করা। এটা শুনতে হয়তো সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু এখানেই আসল জাদুটা লুকিয়ে আছে। আমি যখন প্রথম ফিঙ্গারস্টাইল শিখতে শুরু করি, তখন আমার শিক্ষক বারবার বলতেন, “আর্পেজিও আর স্কেলগুলো ভালোভাবে প্র্যাকটিস করো।” সত্যি বলতে, প্রথমে আমার খুব বোরিং লাগতো, কিন্তু যখন দেখলাম এই সাধারণ প্যাটার্নগুলো দিয়ে কত সুন্দর সুর তৈরি করা যায়, তখন আমার চোখ খুলে গেল। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার ডান হাতের আঙুলগুলোর স্বাধীনতা। আপনার বৃদ্ধাঙ্গুলি (thumb) সাধারণত বেস নোট বাজানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, আর বাকি তিনটি আঙুল (index, middle, ring) উচ্চ তারগুলো বাজানোর জন্য। আপনারা PIMA (Pulgar, Indice, Medio, Anular) পদ্ধতি সম্পর্কে হয়তো শুনেছেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিটি আঙুলের জন্য একটি নির্দিষ্ট তার বরাদ্দ করা হয়, যা প্রাথমিকভাবে খুব সহায়ক। যেমন: P – Sixth/Fifth/Fourth string, I – Third string, M – Second string, A – First string। এইভাবে অনুশীলন করলে আঙুলগুলো তার নিজস্ব কাজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পায় এবং দ্রুত আরও জটিল প্যাটার্ন বাজাতে সক্ষম হয়। প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট এই বেসিক প্যাটার্নগুলো ধীর গতিতে বাজান। দেখবেন, আপনার আঙুলগুলো একসময় নিজেরাই সুরের জাল বুনতে শুরু করেছে।

টাবলেচার (Tablature) ও মিউজিক নোশন বোঝা

ফিঙ্গারস্টাইল গিটার শেখার জন্য টাবলেচার বা “ট্যাবস” এক অসাধারণ টুল। আমার মনে আছে, প্রথম যখন ট্যাবস দেখে গিটার বাজাতে শিখি, তখন মনে হয়েছিল যেন একটা নতুন ভাষা শিখে ফেলেছি!

মিউজিক নোশন বা স্টাফ নোটেশন অনেক সময় নতুনদের জন্য বেশ কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু ট্যাবস অনেক সহজবোধ্য। এটা গিটারের ফ্রেটবোর্ডের একটা গ্রাফিকাল রিপ্রেজেন্টেশন, যেখানে তারের উপর কোন ফ্রেটে কোন আঙুল দিয়ে চাপতে হবে, তা সংখ্যা দিয়ে বোঝানো হয়। প্রতিটি লাইন একটি গিটারের তারকে প্রতিনিধিত্ব করে, আর সংখ্যাগুলো ফ্রেটের নম্বর বোঝায়। আমি নিজেও অনেক জনপ্রিয় গান ট্যাবের মাধ্যমে শিখেছি, যা আমার শেখার প্রক্রিয়াকে অনেক গতি দিয়েছিল। তবে, শুধু ট্যাবের উপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। মিউজিক নোশনের কিছু মৌলিক ধারণা থাকাটাও খুব জরুরি, বিশেষ করে যখন আপনি নিজের সুর তৈরি করতে চাইবেন বা অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্রের সাথে বাজাতে চাইবেন। অনলাইন বা অফলাইনে প্রচুর রিসোর্স আছে যেখানে আপনি টাবলেচার এবং মিউজিক নোশনের প্রাথমিক বিষয়গুলো শিখতে পারবেন। একটু সময় নিয়ে এগুলো আয়ত্ত করার চেষ্টা করুন, দেখবেন আপনার ফিঙ্গারস্টাইলের জ্ঞান অনেক বাড়বে।

Advertisement

প্রতিদিনের অনুশীলন: সাফল্যের গোপন চাবিকাঠি

ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ

বন্ধুরা, গিটার শেখার ক্ষেত্রে আমি একটা জিনিস খুব ভালোভাবে বুঝেছি, সেটা হলো ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করা কতটা জরুরি। যখন আমি প্রথম শুরু করি, তখন ভাবতাম, “একদিনেই সব শিখে ফেলবো!” কিন্তু এটা সম্ভব নয়। একদিনে একটা নতুন কর্ড শেখা, বা একটা নতুন প্যাটার্ন আয়ত্ত করা, কিংবা কোনো গানের একটা ছোট অংশ বাজানো – এমন ছোট ছোট লক্ষ্য সেট করুন। আমি প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট অনুশীলন করার চেষ্টা করতাম, এবং আমার লক্ষ্য থাকত ওই ৩০ মিনিটে একটা নির্দিষ্ট জিনিস শেখা বা ভালো করে বাজানো। এতে কী হয় জানেন?

আপনি যখন আপনার সেট করা ছোট লক্ষ্যটা পূরণ করতে পারেন, তখন একটা দারুণ আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। মনে হয়, “হ্যাঁ, আমি পারছি!” এই অনুভূতিটা আপনাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে। ছোট লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে করতে দেখবেন, একটা সময় পর আপনি নিজেই অনেক বড় একটা মাইলফলক পেরিয়ে গেছেন। এটা অনেকটা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো, প্রতিটি ছোট ধাপ আপনাকে চূড়ার দিকে নিয়ে যায়।

ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা

গিটার শেখার পথে ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস – এই দুটো জিনিসই আমার সবচেয়ে বড় সঙ্গী ছিল। অনেক সময় এমন হয়েছে যে, একটা সুর বাজাতে গিয়ে বারবার ভুল করছি, বা একটা কর্ড ধরতে গিয়ে আঙুল ব্যথা হয়ে যাচ্ছে। তখন মনটা খুব খারাপ হয়ে যেত, মনে হতো বুঝি আমার দ্বারা হবে না। কিন্তু ওই সময়টায় যারা হাল ছেড়ে দেয়, তারাই হেরে যায়। আমি তখন নিজেকে বলতাম, “আরে বাবা!

এটা তো একটা শেখার প্রক্রিয়া, ভুল হবেই। ভুল থেকেই তো শিখতে পারবো।” আর আমার শিক্ষক সবসময় বলতেন, “তুমি পারবেই, শুধু চেষ্টা চালিয়ে যাও।” এই কথাগুলো আমার মধ্যে একটা বিশ্বাস তৈরি করেছিল। আপনারও এমনটা হতে পারে। হয়তো আপনার বন্ধুদের চেয়ে আপনার শিখতে একটু বেশি সময় লাগছে, বা হয়তো আপনার প্রিয় গিটারিস্টের মতো বাজাতে পারছেন না। এতে হতাশ হবেন না। মনে রাখবেন, সবার শেখার গতি একরকম হয় না। নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যান, নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন, আর ছোট ছোট উন্নতিগুলোকে উপভোগ করুন। দেখবেন, একসময় আপনি নিজেই নিজের সেরা শিক্ষক হয়ে উঠবেন।

নিজের স্টাইল তৈরি: ভিড়ের মাঝে নিজস্বতা

পছন্দের সুর ভেঙে গড়া

ফিঙ্গারস্টাইলের দুনিয়ায় প্রবেশ করার পর আমার সবচেয়ে ভালো লাগার একটা দিক ছিল নিজের স্টাইল তৈরি করা। আমি যখন শুরু করি, তখন অনেক বিখ্যাত গিটারিস্টের গান বাজাতাম। কিন্তু শুধু তাদের বাজানো কপি করে লাভ কী?

আমার শিক্ষক বলতেন, “অন্যের গান বাজানো ভালো, কিন্তু তোমার নিজের একটা কণ্ঠ থাকতে হবে।” এই কথাটা আমাকে খুব ভাবিয়েছিল। আমি তখন আমার প্রিয় গানগুলো নিয়ে বসতাম, আর সেগুলোকে ভেঙে নতুন করে গড়ার চেষ্টা করতাম। যেমন, একটি পরিচিত সুরকে আমি ভিন্ন কোনো রিদম প্যাটার্নে বাজিয়ে দেখতাম, বা এর মধ্যে নিজের পছন্দের কিছু কর্ড প্রগ্রেশন যোগ করতাম। এতে করে গানের মূল সুরটা ঠিক থাকলেও, এর একটা নিজস্ব ফ্লেভার আসতো। এটা অনেকটা একজন শেফের মতো, যিনি একটি পরিচিত রেসিপিকে নিজের মতো করে নতুন উপাদান দিয়ে আরও সুস্বাদু করে তোলেন। এই প্রক্রিয়ায় আপনার সৃজনশীলতা বাড়ে, আর আপনি গিটারের সাথে আরও গভীরে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। একবার যখন আপনি এই প্রক্রিয়াটা শুরু করবেন, তখন দেখবেন অসংখ্য নতুন আইডিয়া আপনার মাথায় আসছে।

Advertisement

ইম্প্রোভাইজেশন ও সৃষ্টিশীলতা

ইম্প্রোভাইজেশন বা তাৎক্ষণিক সুর তৈরি করা ফিঙ্গারস্টাইলের এক অন্যরকম জাদু। আমার মনে আছে, প্রথমদিকে ইম্প্রোভাইজেশন করতে আমার খুব ভয় লাগতো। মনে হতো, ভুল করে ফেলবো। কিন্তু আমার এক বন্ধু আমাকে শিখিয়েছিল, “ভুল বলে কিছু নেই, সবই নতুন আবিষ্কার।” এই কথাটা আমার মধ্যে একটা বড় পরিবর্তন এনেছিল। আমি তখন বিভিন্ন স্কেল এবং মোডের উপর ইম্প্রোভাইজেশন প্র্যাকটিস করা শুরু করি। প্রথমে খুবই সহজ স্কেল দিয়ে শুরু করুন, যেমন পেন্টাটোনিক স্কেল। একটি ব্যাকট্র্যাকের সাথে বাজানো বা এমনকি মেট্রোনোমের সাথে শুধু নিজের মতো করে সুর তৈরি করা – এই অনুশীলন আপনাকে গিটারের ফ্রেটবোর্ডের উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে। এটা অনেকটা গল্প বলার মতো, যেখানে আপনি আপনার নিজস্ব শব্দ ব্যবহার করে একটি নতুন গল্প তৈরি করছেন। যখন আপনি ইম্প্রোভাইজেশন করা শুরু করবেন, তখন আপনার গিটারের সাথে আপনার সম্পর্ক আরও গভীর হবে। আপনি আপনার আবেগ এবং অনুভূতিগুলোকে সরাসরি সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারবেন, যা সত্যিই এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এই অভ্যাস আপনাকে শুধু একজন ভালো গিটারিস্টই নয়, একজন সত্যিকারের শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলবে।

উন্নত কৌশল: সুরের গভীরে ডুব

থাপিং (Thumping) ও পারকাশন (Percussion) এর ব্যবহার

বন্ধুরা, ফিঙ্গারস্টাইলের জগতে একবার প্রবেশ করলে দেখবেন, এর কৌশলগুলোর কোনো শেষ নেই। আমি নিজে যখন প্রথম থাপিং এবং পারকাশন কৌশলগুলো দেখতে শুরু করি, তখন ভাবতাম, “এগুলো কি গিটার বাজানো, নাকি ড্রাম বাজানো!” কিন্তু যখন এই কৌশলগুলো আয়ত্ত করতে শুরু করি, তখন বুঝতে পারি গিটারের সুরের সাথে রিদম যোগ করার এটা কী অসাধারণ এক উপায়। থাপিং হলো আপনার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে তারের উপর আঘাত করে নোট বাজানো, অনেকটা পিয়ানোর হাতুড়ির মতো। আর পারকাশন হলো গিটারের বডিতে বা ফ্রেটবোর্ডে হাত দিয়ে বিভিন্নভাবে টোকা দিয়ে ড্রামের সাউন্ড তৈরি করা। আমার মনে আছে, প্রথম যখন এই কৌশলগুলো প্র্যাকটিস করি, তখন আমার হাত ও আঙুলগুলো খুব ব্যথা হতো। কিন্তু নিয়মিত অনুশীলনে এই ব্যথাগুলো কমে যায় এবং আপনি ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। এই কৌশলগুলো আপনার ফিঙ্গারস্টাইল পারফরম্যান্সকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে, যেখানে আপনি একই সাথে মেলোডি, বেসলাইন এবং রিদম বাজাতে পারবেন। ইউটিউবে অনেক টিউটোরিয়াল আছে, যেখানে এই কৌশলগুলো ধাপে ধাপে শেখানো হয়। একটু ধৈর্য ধরে শেখার চেষ্টা করুন, দেখবেন আপনিও আপনার গিটারকে এক বাদ্যযন্ত্রের অর্কেস্ট্রা বানিয়ে ফেলতে পারবেন।

হারমোনিক্স (Harmonics) এবং ফ্লেক্সিবিলিটি (Flexibility)

ফিঙ্গারস্টাইলের আরেকটা মুগ্ধ করার মতো দিক হলো হারমোনিক্স। এগুলো এমন এক বিশেষ সুর, যা গিটারের তারকে হালকাভাবে ছুঁয়ে বাজানো হয়, যার ফলে এক অপূর্ব ঝংকার তৈরি হয়। আমার মনে আছে, যখন প্রথম হারমোনিক্স বাজাতে শিখেছিলাম, তখন এর স্বচ্ছ এবং উজ্জ্বল সুর আমাকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে, আমি সারাদিন শুধু হারমোনিক্স বাজিয়েই সময় কাটাতাম। ন্যাচারাল হারমোনিক্স এবং আর্টিফিশিয়াল হারমোনিক্স – এই দুই ধরনের হারমোনিক্স বাজানো শেখা আপনার ফিঙ্গারস্টাইল রিpertoire-কে অনেক সমৃদ্ধ করবে। এর পাশাপাশি, আপনার আঙুলের ফ্লেক্সিবিলিটি বা নমনীয়তা বাড়ানোটও খুব জরুরি। বিভিন্ন স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ, যেমন ক্রোম্যাটিক রান বা ফিঙ্গার এক্সারসাইজ, আপনার আঙুলগুলোকে দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে নড়াচড়া করতে সাহায্য করবে। ফিঙ্গারস্টাইলে অনেক সময় অদ্ভুত কর্ড পজিশন বা দ্রুত আঙুলের পরিবর্তন করতে হয়, আর এর জন্য ফ্লেক্সিবিলিটি থাকাটা অপরিহার্য। আমি নিজে প্রতিদিন অনুশীলন শুরু করার আগে ১০-১৫ মিনিট আঙুলের ওয়ার্ম-আপ করি। এতে আঙুলগুলো প্রস্তুত হয় এবং চোট লাগার ভয় কমে যায়।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম: শেখা ও শেয়ার করার নতুন দিগন্ত

기타 핑거스타일 기법 관련 이미지 2

ইউটিউব ও সামাজিক মাধ্যমের সদ্ব্যবহার

আজকের ডিজিটাল যুগে ফিঙ্গারস্টাইল গিটার শেখা এবং নিজের পারফরম্যান্স শেয়ার করাটা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে। আমার যখন ফিঙ্গারস্টাইল শেখার শুরু, তখন ইন্টারনেটে এত রিসোর্স ছিল না। কিন্তু এখন ইউটিউবে আপনি বিশ্বের সেরা গিটারিস্টদের টিউটোরিয়াল, কভার এবং অরিজিনাল কম্পোজিশন দেখতে পারবেন। আমি নিজেও অনেক জনপ্রিয় ফিঙ্গারস্টাইল গিটারিস্টদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রেখেছি, যেমন Andy McKee, Sungha Jung, Igor Presnyakov, Don Ross। তাদের বাজানো দেখে আমি অনেক কিছু শিখেছি এবং আমার নিজস্ব স্টাইল তৈরি করতে অনুপ্রাণিত হয়েছি। শুধু শেখাই নয়, নিজের পারফরম্যান্স রেকর্ড করে ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামে আপলোড করাটাও খুব জরুরি। এতে আপনি ফিডব্যাক পাবেন, নতুন বন্ধুদের সাথে পরিচিত হতে পারবেন, আর আপনার শেখার গতিও বাড়বে। আমার মনে আছে, প্রথম যখন আমার ভিডিও আপলোড করি, তখন বেশ নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু মানুষ যখন আমার সুরের প্রশংসা করলো, তখন এক অন্যরকম আনন্দ পেয়েছিলাম। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং নিজেকে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহ পান।

অনলাইন টিউটর ও কমিউনিটি

ইউটিউবের বাইরেও অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আছে, যেখানে আপনি পেশাদার শিক্ষকদের কাছ থেকে সরাসরি ক্লাস নিতে পারবেন। যেমন, TrueFire, JamPlay, JustinGuitar-এর মতো সাইটগুলোতে ফিঙ্গারস্টাইলের উপর দারুণ কোর্স পাওয়া যায়। আমার অনেক বন্ধু এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে শিখেছে এবং তাদের ফিঙ্গারস্টাইলের দক্ষতা অনেক বেড়েছে। এছাড়াও, Facebook-এ ফিঙ্গারস্টাইল গিটারিস্টদের অনেক গ্রুপ আছে, যেখানে আপনি আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারবেন, অন্যদের সাথে আলোচনা করতে পারবেন এবং আপনার পারফরম্যান্স শেয়ার করতে পারবেন। আমি নিজেও এমন কিছু গ্রুপে যুক্ত আছি, যেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন টিপস এবং কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। এই কমিউনিটিগুলো আপনাকে শুধু শেখার সুযোগই দেয় না, বরং অন্যদের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আপনার সৃজনশীলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। আমার মনে হয়, একা একা শেখার চেয়ে একটি সক্রিয় কমিউনিটির অংশ হয়ে শেখাটা অনেক বেশি কার্যকর।

বৈশিষ্ট্য বর্ণনা
গিটারের ধরন অ্যাকোস্টিক গিটার (কনসার্ট বা গ্র্যান্ড অডিটোরিয়াম সাইজ) ফিঙ্গারস্টাইলের জন্য আদর্শ।
তারের ধরন সাধারণত স্টিল স্ট্রিং (steel string) বা নাইলন স্ট্রিং (nylon string) উভয়ই ব্যবহার করা হয়। নাইলন তারে সুর নরম হয়, স্টিলে উজ্জ্বল।
অ্যাকশন (Action) কম অ্যাকশন গিটার ফিঙ্গারস্টাইলের জন্য বেশি আরামদায়ক।
সাউন্ডবোর্ড সলিড টপ (Solid Top) গিটারগুলোর সাউন্ড কোয়ালিটি উন্নত হয়।
পিকআপ সিস্টেম লাইভ পারফরম্যান্সের জন্য বিল্ট-ইন পিকআপ (built-in pickup) থাকা ভালো।
Advertisement

গিটার রক্ষণাবেক্ষণ: আপনার সুরের বন্ধুকে যত্ন নিন

নিয়মিত পরিষ্কার এবং তার পরিবর্তন

আপনার ফিঙ্গারস্টাইল গিটারটি আপনার একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো। আর বন্ধুর যত্ন নেওয়াটা আমাদের দায়িত্ব, তাই না? আমার মনে আছে, প্রথমদিকে আমি গিটারের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে খুব একটা সচেতন ছিলাম না। ভাবতাম, বাজাতে পারলেই হলো। কিন্তু যখন দেখলাম গিটারের তারগুলো মরচে ধরে যাচ্ছে, বা ফ্রেটবোর্ড নোংরা হয়ে সুরের মান খারাপ হচ্ছে, তখন বুঝলাম যত্ন নেওয়া কতটা জরুরি। আপনার গিটারকে নিয়মিত পরিষ্কার করুন। প্রতিবার বাজানোর পর একটি নরম কাপড় দিয়ে গিটারের তার এবং বডি মুছে ফেলুন। ফ্রেটবোর্ডে জমে থাকা নোংরা পরিষ্কার করার জন্য বিশেষ ফ্রেটবোর্ড ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। আর সবচেয়ে জরুরি হলো তার পরিবর্তন। গিটারের তারগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পর তাদের সুরের উজ্জ্বলতা হারায়। আমি সাধারণত প্রতি ২-৩ মাস অন্তর আমার গিটারের তার পরিবর্তন করি। এতে সুর সবসময় পরিষ্কার এবং ঝকঝকে থাকে। নতুন তার লাগালে গিটার বাজাতেও অনেক ভালো লাগে, আর আপনার অনুশীলনও আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

আবহাওয়ার প্রভাব এবং সঠিক সংরক্ষণ

আবহাওয়ার প্রভাব গিটারের উপর কতটা পড়তে পারে, তা হয়তো অনেকেই জানেন না। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা, আবার খুব বেশি আর্দ্রতা বা শুষ্ক আবহাওয়া গিটারের কাঠের উপর খুব খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সলিড টপ গিটারগুলো তাপমাত্রার পরিবর্তনে খুব সংবেদনশীল হয়। আমি সবসময় আমার গিটারকে একটি গিটার কেসের মধ্যে রাখি, যাতে এটি ধুলোবালি এবং আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত থাকে। অনেক সময় হিউমিডিফায়ার (humidifier) বা ডিহিউমিডিফায়ার (dehumidifier) ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনার এলাকায় আবহাওয়া খুব বেশি শুষ্ক বা আর্দ্র হয়। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো হয়তো আপনার কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে নাও হতে পারে, কিন্তু এগুলো আপনার গিটারের আয়ু এবং সুরের মান বজায় রাখতে খুব সাহায্য করে। আপনার গিটার যখন ভালো থাকবে, তখন আপনিও আরও বেশি উৎসাহ নিয়ে বাজাতে পারবেন এবং আপনার প্রিয় সুরগুলোকে আরও সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন। ফিঙ্গারস্টাইল গিটার শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, এটি আপনার আবেগ আর স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।

글을마চি며

আমি জানি, গিটারের যত্ন নেওয়াটা হয়তো সবসময় আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে না, কিন্তু বিশ্বাস করুন, আপনার গিটারটি আপনার এই সুরেলা যাত্রার নীরব সাক্ষী। ফিঙ্গারস্টাইল গিটার শুধু কিছু নোট বাজানো বা কৌশল আয়ত্ত করা নয়, এটা নিজেকে প্রকাশ করার এক অসাধারণ মাধ্যম। আশা করি, এই দীর্ঘ পথচলায় আমি আপনাকে কিছু মূল্যবান টিপস দিতে পেরেছি, যা আপনার শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় করে তুলবে। মনে রাখবেন, প্রতিটি ভুলই শেখার একটি ধাপ, আর প্রতিটি সুরই আপনার নিজস্ব গল্পের অংশ। তাই, গিটার হাতে নিন, নিজেকে হারিয়ে ফেলুন সুরের সমুদ্রে, আর তৈরি করুন আপনার নিজস্ব সুরের জাদু!

Advertisement

알아두면 쓸모 있는 정보

1. মেট্রোনোম ব্যবহার: নিয়মিত মেট্রোনোম ব্যবহার করে অনুশীলন করলে আপনার রিদম এবং টেম্পো আরও উন্নত হবে। ধীর গতিতে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে গতি বাড়ান।

2. বিভিন্ন স্টাইল শুনুন: শুধু ফিঙ্গারস্টাইল নয়, জ্যাজ, ব্লুজ, ক্লাসিক্যাল সহ বিভিন্ন ঘরানার গান শুনুন। এটি আপনার সুরের জ্ঞানকে প্রসারিত করবে এবং নতুন আইডিয়া দেবে।

3. নিজের বাজানো রেকর্ড করুন: মাঝে মাঝে আপনার অনুশীলন বা পারফরম্যান্স রেকর্ড করে শুনুন। এতে আপনার ভুলগুলো ধরতে পারবেন এবং উন্নতির জন্য কোথায় মনোযোগ দিতে হবে তা বুঝতে পারবেন।

4. স্থানীয় গিটারিস্টদের সাথে যোগাযোগ করুন: আপনার এলাকার অন্যান্য গিটারিস্টদের সাথে দেখা করুন, অভিজ্ঞতা বিনিময় করুন এবং একসাথে জ্যাম করুন। এটি আপনাকে অনেক অনুপ্রাণিত করবে।

5. স্ট্রিং গেজ নিয়ে পরীক্ষা: বিভিন্ন ধরনের গিটার স্ট্রিং (তার) ব্যবহার করে দেখুন। হালকা বা ভারী গেজের তারগুলো আপনার বাজানোর অভিজ্ঞতা এবং সুরের উপর ভিন্ন প্রভাব ফেলবে। আপনার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক কোনটি, তা খুঁজে বের করুন।

중요 사항 정리

ফিঙ্গারস্টাইল গিটার শেখা একটি আনন্দময় যাত্রা, যেখানে ধৈর্য, নিয়মিত অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাস খুবই জরুরি। সঠিক গিটার নির্বাচন থেকে শুরু করে হাতের সঠিক পজিশন, বেসিক প্যাটার্ন আয়ত্ত করা, এবং উন্নত কৌশল যেমন থাপিং ও হারমোনিক্স শেখা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই নিজেকে উপভোগ করুন। ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন, অন্যের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন এবং গিটারের যত্ন নিন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার নিজস্ব স্টাইল তৈরি করা এবং সুরের মাধ্যমে আপনার আবেগ প্রকাশ করা। মনে রাখবেন, গিটার বাজানো শুধু একটি দক্ষতা নয়, এটি আপনার হৃদয়ের গান।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: কোথা থেকে শুরু করব? ফিঙ্গারস্টাইল গিটারের জগতে নতুনরা কিভাবে তাদের যাত্রা শুরু করতে পারে?

উ: এখানে আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা বলব। যখন আমি প্রথম ফিঙ্গারস্টাইল শেখা শুরু করেছিলাম, তখন মনে হয়েছিল যে অনেক কঠিন কিছু শিখতে যাচ্ছি। কিন্তু আসলে এর শুরুটা খুবই সহজ হতে পারে!
প্রথমে আপনাকে পিকের বদলে আপনার আঙ্গুল ব্যবহার করে তার বাজানোতে অভ্যস্ত হতে হবে। এর জন্য খুব সাধারণ কিছু অনুশীলন আছে। যেমন, প্রতিটি আঙ্গুল দিয়ে আলাদা আলাদা তার বাজানোর অভ্যাস করা। আমার মতে, প্রথমে মেট্রোনোমের সাথে ধীরে ধীরে আপনার ডান হাতের আঙ্গুলগুলোকে স্ট্রিং-এর উপর সঠিকভাবে বসিয়ে নেয়াটা জরুরি। বুড়ো আঙ্গুল (thumb) সাধারণত E, A, D স্ট্রিং-এর জন্য এবং বাকি তিনটি আঙ্গুল (index, middle, ring) G, B, e স্ট্রিং-এর জন্য ব্যবহার করা হয়। শুরুর দিকে কিছু বেসিক ফিঙ্গারস্টাইল প্যাটার্ন যেমন ‘PIMA’ (Pulgar-Indice-Medio-Anular, Spanish for thumb-index-middle-ring) অনুশীলন করা যেতে পারে। ইউটিউবে এর জন্য অনেক টিউটোরিয়াল পাবেন, যেগুলো দেখে আপনি ধারণা নিতে পারেন। মনে রাখবেন, তাড়াহুড়ো না করে ধীরেসুস্থে প্রতিটি নোট সঠিকভাবে বাজানোটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এতে আপনার আঙ্গুলের স্মৃতিশক্তি (muscle memory) তৈরি হবে এবং আপনি দ্রুত উন্নতি করতে পারবেন। আমার বিশ্বাস, সঠিক নিয়মে শুরু করলে এই পথটা আপনার কাছে এক অন্যরকম আনন্দের পথ হয়ে উঠবে!

প্র: ফিঙ্গারস্টাইলের জন্য কি কি মৌলিক কৌশল শেখা প্রয়োজন?

উ: ফিঙ্গারস্টাইলের দুনিয়ায় প্রবেশ করতে হলে কিছু মৌলিক কৌশল অবশ্যই জানতে হবে, যা আপনার খেলার ভিত্তি তৈরি করবে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এই কৌশলগুলো আয়ত্ত করতে পারলে আপনি যেকোনো গানকে ফিঙ্গারস্টাইলে বাজানোর আত্মবিশ্বাস পাবেন। এর মধ্যে প্রথমত আসে ‘আর্পেজিওস’ (Arpeggios) বাজানো। অর্থাৎ, একটি কর্ডের প্রতিটি নোটকে আলাদা আলাদা করে বাজানো। এটি আপনার আঙ্গুলগুলোকে স্বাচ্ছন্দ্য দেবে এবং নোটগুলির স্পষ্টতা বাড়াবে। দ্বিতীয়ত, ‘বেস নোট’ এবং ‘মেলোডি নোট’ আলাদাভাবে বাজানো শেখা। ফিঙ্গারস্টাইলের সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলির মধ্যে এটি অন্যতম, যেখানে আপনার বুড়ো আঙ্গুল বাজায় বেস লাইন আর বাকি আঙ্গুলগুলো বাজায় গানের মূল সুর। এর ফলে একইসাথে আপনি একটি সম্পূর্ণ সাউন্ডস্কেপ তৈরি করতে পারবেন। এরপর আসে ‘সুইপিং’ (Sweeping) এবং ‘স্লাইডিং’ (Sliding) টেকনিক, যা সুরের মধ্যে একটি মসৃণতা নিয়ে আসে। এছাড়াও, ‘হ্যামার-অন’ (Hammer-on) এবং ‘পুল-অফ’ (Pull-off) কৌশলগুলোও আপনার বাজানোকে আরও গতিশীল ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। এগুলোর প্রতিটিই খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং অনুশীলন করার সময় প্রতিটি টেকনিকের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। শুরুর দিকে এই কৌশলগুলো কিছুটা কঠিন মনে হলেও, ধৈর্য ধরে অনুশীলন করলে দেখবেন আপনার আঙ্গুলগুলো যেন নিজেই নাচতে শুরু করেছে!

প্র: নিয়মিত অনুশীলন কিভাবে ফিঙ্গারস্টাইল দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে?

উ: সত্যি বলতে, যেকোনো দক্ষতা অর্জনের জন্য অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমি যখন নিয়মিত গিটার নিয়ে বসতাম, তখন মনে হতো যেন গিটারটা আমার হাতের একটা অংশ হয়ে গেছে। ফিঙ্গারস্টাইল গিটারের ক্ষেত্রেও এটি পুরোপুরি সত্যি। নিয়মিত অনুশীলন আপনার আঙ্গুলের শক্তি, নমনীয়তা এবং সমন্বয় বাড়ায়। আপনি যখন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে অনুশীলন করেন, তখন আপনার মস্তিষ্কের সাথে আপনার আঙ্গুলের একটা সংযোগ তৈরি হয়, যাকে আমরা ‘মাসল মেমরি’ বলি। এই মাসল মেমরির কারণে আপনি কোনো সুর বা টেকনিক না ভেবেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাজাতে পারবেন। প্রথমদিকে অল্প সময়ের জন্য হলেও, প্রতিদিন অনুশীলন করাটা জরুরি। যেমন, আমি নিজে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা গিটার নিয়ে বসতাম, আর তাতে অবিশ্বাস্য উন্নতি চোখে পড়ত। এছাড়াও, প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করলে আপনার শেখার আগ্রহ বাড়বে এবং একই সাথে আপনার সৃজনশীলতাও বিকশিত হবে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত অনুশীলনের ফলে আপনার বাজানোতে একটি নির্দিষ্ট ছন্দ এবং গতি আসবে, যা ফিঙ্গারস্টাইলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। অনুশীলনের সময় ধৈর্য হারাবেন না। মনে রাখবেন, ছোট ছোট ধাপে এগিয়ে গেলেই একদিন আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন। আর যখন দেখবেন আপনার আঙ্গুলগুলো অনর্গল সুর তৈরি করছে, তখন যে আনন্দটা পাবেন, তার তুলনা হয় না!

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement